পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি কি কাগজ লাগে?
পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি কি কাগজ লাগে? ই-পাসপোর্ট নবায়নের সম্পূর্ণ নির্দেশিকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আপনার ই-পাসপোর্ট দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে নবায়ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য, ধাপ এবং বিশেষজ্ঞ টিপস নিয়ে একটি বিস্তারিত গাইড।
বর্তমান বিশ্বে ভ্রমণ, শিক্ষা বা কাজের জন্য পাসপোর্ট একটি অপরিহার্য দলিল। এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাধা পড়তে পারে। বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পর থেকে পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়া আরও আধুনিক ও সহজ হয়েছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে – পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি কি কাগজ লাগে? নতুন নিয়মে ই-পাসপোর্ট নবায়নের ধাপগুলো কী? ফি কত এবং কিভাবে পরিশোধ করতে হয়?
এই বিস্তারিত নির্দেশিকায়, আমরা ই-পাসপোর্ট নবায়নের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। আপনার সময় বাঁচানো এবং প্রক্রিয়াটিকে ঝামেলামুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র থেকে শুরু করে অনলাইন আবেদন, ফি পরিশোধ এবং জরুরি টিপস পর্যন্ত সবকিছু এখানে পাবেন। আমাদের লক্ষ্য হলো আপনাকে এমন একটি সুস্পষ্ট পথনির্দেশনা দেওয়া, যা আপনাকে আত্মবিশ্বাসের সাথে আপনার পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে। সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং সেরা অনুশীলনগুলি বিবেচনা করে, আমরা নিশ্চিত করব যে আপনার কাছে সবচেয়ে আপ-টু-ডেট এবং কার্যকর তথ্য রয়েছে।
পাসপোর্ট রিনিউ: একটি অপরিহার্য প্রক্রিয়া
পাসপোর্ট নবায়ন কেবল একটি প্রশাসনিক কাজ নয়, এটি আপনার আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্রকে সচল রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট আপনাকে বিভিন্ন সমস্যায় ফেলতে পারে, যেমন বিদেশ ভ্রমণ আটকে যাওয়া, ভিসা আবেদন বাতিল হওয়া, এমনকি জরুরি প্রয়োজনে বিদেশে আটকা পড়া। তাই, সময়মতো পাসপোর্ট রিনিউ করা অত্যন্ত জরুরি।
কেন পাসপোর্ট রিনিউ করা জরুরি?
- বিরামহীন ভ্রমণ: আপনার যদি ঘন ঘন বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে একটি বৈধ পাসপোর্ট অপরিহার্য। অনেক দেশ পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখের অন্তত ৬ মাস আগে থেকে মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক করে।
- ভিসা আবেদন: নতুন ভিসার জন্য আবেদন করতে বা বিদ্যমান ভিসা স্থানান্তর করতে বৈধ পাসপোর্ট প্রয়োজন।
- পরিচয়পত্র: বিদেশে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পাসপোর্ট সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল।
- আইনি জটিলতা এড়াতে: মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে অবস্থান করলে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
- জরুরি প্রয়োজন: যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে (যেমন চিকিৎসা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ) দ্রুত বিদেশ ভ্রমণের জন্য বৈধ পাসপোর্ট থাকা আবশ্যক।
সাম্প্রতিক প্রবণতা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা বাড়ছে, এবং এর সাথে পাল্লা দিয়ে পাসপোর্ট সেবার মানোন্নয়নও জরুরি হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন এই আধুনিকায়নেরই একটি অংশ, যা বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল পরিচয়ের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।
ই-পাসপোর্ট বনাম এমআরপি: রিনিউ প্রক্রিয়ার পার্থক্য
বাংলাদেশের পাসপোর্ট সেবা ম্যানুয়াল পাসপোর্ট (MRP) থেকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তরিত হয়েছে। যদিও দুটি প্রকারের পাসপোর্টই বৈধ, তবে ই-পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়াতে কিছু আধুনিক সুবিধা যুক্ত হয়েছে।
- এমআরপি (Machine Readable Passport): এটি একটি ঐতিহ্যবাহী পাসপোর্ট, যেখানে তথ্য যন্ত্র দ্বারা পাঠযোগ্য ফরম্যাটে প্রিন্ট করা হয়। এমআরপি নবায়নের ক্ষেত্রে মূলত পুরনো পাসপোর্টের ফটোকপি এবং অন্যান্য সনাক্তকরণ নথি প্রয়োজন হয়।
- ই-পাসপোর্ট (Electronic Passport): ই-পাসপোর্টে একটি এমবেডেড মাইক্রোচিপ থাকে যেখানে আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য (ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আইরিশ স্ক্যান) সুরক্ষিত থাকে। ই-পাসপোর্ট নবায়নের সময় আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য হালনাগাদ করা হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনার আগের এমআরপি পাসপোর্ট থাকে। অনলাইন আবেদন পদ্ধতি ই-পাসপোর্ট নবায়নকে আরও দ্রুত ও নিরাপদ করেছে।
বর্তমানে, বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট আবেদন এবং নবায়নের ক্ষেত্রে ই-পাসপোর্টকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এটি জালিয়াতি প্রতিরোধে আরও কার্যকর এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি কি কাগজ লাগে? – বিস্তারিত চেকলিস্ট
পাসপোর্ট নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপনার বর্তমান পাসপোর্টের ধরন, বয়স এবং কিছু বিশেষ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। নিচে আমরা বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের একটি বিস্তারিত চেকলিস্ট প্রদান করছি। উল্লেখ্য, এই তথ্যগুলি বাংলাদেশ সরকারের পাসপোর্ট অফিসের সাধারণ নির্দেশিকা এবং বর্তমান নিয়মাবলীর উপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়েছে। যদিও আমরা সর্বোচ্চ নির্ভুলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি, তবে নির্দিষ্ট প্রয়োজনের জন্য সর্বদা বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট পোর্টাল বা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিস থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
সাধারণ রিনিউয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আপনার যদি একটি বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ এমআরপি/ই-পাসপোর্ট থাকে এবং আপনি এটি নবায়ন করতে চান, তবে নিম্নলিখিত কাগজপত্রগুলি প্রস্তুত রাখতে হবে:
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য (১৮ বছর বা তার বেশি)
- পুরাতন পাসপোর্ট: আপনার বর্তমান (এমআরপি বা ই-পাসপোর্ট) পাসপোর্টের মূল কপি এবং এর ডাটা পেজের ফটোকপি। যদি এমআরপি থাকে, তাহলে ই-পাসপোর্ট আবেদনের সময় সেটি জমা দিতে হবে।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আপনার বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি এবং ফটোকপি। আবেদন ফর্মে NID নম্বর অবশ্যই সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে। NID-এর তথ্যের সাথে পাসপোর্টের তথ্যের মিল থাকা বাধ্যতামূলক।
- আবেদন সারাংশ (Application Summary): অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি।
- পেমেন্ট স্লিপ/অনলাইন পেমেন্ট নিশ্চিতকরণ: পাসপোর্ট নবায়ন ফির পরিশোধের প্রমাণপত্র।
- ঠিকানার প্রমাণপত্র (ঐচ্ছিক, তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে): বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানি বিল বা টেলিফোন বিলের কপি, যেখানে আপনার বর্তমান ঠিকানা উল্লেখ আছে। এটি সাধারণত পরিবর্তন না হলে প্রয়োজন হয় না, তবে নিশ্চিতকরণের জন্য চাইতে পারে।
- পেশাগত পরিচয়পত্র (ঐচ্ছিক): যদি আপনি পেশা পরিবর্তন করে থাকেন বা আপনার পেশা সরকারি দলিলে উল্লেখ করতে চান, তবে পেশাগত পরিচয়পত্রের ফটোকপি (যেমন - সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য NOC/GO, বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রত্যয়নপত্র)।
চিত্রের পরামর্শ: একটি চেকলিস্টের ছবি যেখানে NID, পুরনো পাসপোর্ট, আবেদন ফর্ম, পেমেন্ট স্লিপ ইত্যাদি দেখা যাচ্ছে। (Alt text: পাসপোর্ট নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র, পুরনো পাসপোর্ট, আবেদন ফর্ম, পেমেন্ট স্লিপ)
অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য (১৮ বছরের কম)
অপ্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত নথি এবং পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়:
- পুরাতন পাসপোর্ট: অপ্রাপ্তবয়স্কের বর্তমান পাসপোর্টের মূল কপি এবং ডাটা পেজের ফটোকপি।
- জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC): অপ্রাপ্তবয়স্কের মূল জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং ফটোকপি।
- পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র: পিতা ও মাতা উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি এবং ফটোকপি।
- পিতা-মাতার পাসপোর্ট (যদি থাকে): পিতা ও মাতা উভয়ের পাসপোর্টের ফটোকপি।
- বিবাহ সনদ (যদি প্রযোজ্য হয়): পিতা-মাতার বিবাহ সনদ।
- অভিভাবকত্বের প্রমাণপত্র: যদি পিতা-মাতা জীবিত না থাকেন বা অন্য কোনো কারণে অভিভাবক পরিবর্তন হয়, তবে আদালতের মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিভাবকত্বের প্রমাণপত্র।
- আবেদন সারাংশ ও পেমেন্ট স্লিপ: প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই।
মেয়াদোত্তীর্ণ বা হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র
কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে, সাধারণ কাগজপত্রের পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু নথি জমা দিতে হয়:
মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট
যদি আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং আপনি রিনিউ করতে চান, তবে সাধারণ কাগজপত্রের সাথে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি নিশ্চিত করুন:
- মেয়াদোত্তীর্ণের সময়কাল: মেয়াদোত্তীর্ণের সময়কালের উপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে। এই বিষয়ে পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশিকা অনুসরণ করুন।
- পুরাতন পাসপোর্ট: অবশ্যই মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টের মূল কপি জমা দিতে হবে।
হারানো বা চুরি যাওয়া পাসপোর্ট
পাসপোর্ট হারানো বা চুরি যাওয়া একটি গুরুতর বিষয়। এক্ষেত্রে নবায়নের প্রক্রিয়াটি কিছুটা ভিন্ন হয়:
- জিডি কপি (সাধারণ ডায়েরি): নিকটস্থ থানায় পাসপোর্ট হারানো বা চুরি যাওয়ার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করতে হবে এবং এর মূল কপি ও ফটোকপি জমা দিতে হবে। জিডি নম্বার অনলাইন আবেদনে উল্লেখ করতে হয়।
- আগের পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে): হারানো পাসপোর্টের ফটোকপি, যদি আপনার কাছে থাকে। এটি আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করে।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC): আপনার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য NID বা BRC-এর মূল কপি ও ফটোকপি।
- ঠিকানার প্রমাণপত্র: নিশ্চিতকরণের জন্য বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
- আবেদন সারাংশ ও পেমেন্ট স্লিপ: প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই।
- বিশেষ সাক্ষাৎকার: কিছু ক্ষেত্রে, পাসপোর্ট অফিস কর্তৃপক্ষ হারানো পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকতে পারে।
"পাসপোর্ট নবায়নের প্রতিটি ধাপে নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছোট ভুলও আপনার আবেদন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারে। তাই, প্রতিটি ডকুমেন্ট সাবধানে যাচাই করুন।" - পাসপোর্ট সেবা বিশেষজ্ঞের মতামত।
পেশা বা ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে
যদি আপনার পেশা বা বর্তমান ঠিকানায় কোনো পরিবর্তন আসে, তবে পাসপোর্ট নবায়নের সময় এই তথ্যগুলি হালনাগাদ করা সম্ভব। এর জন্য অতিরিক্ত কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে:
- পেশা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে:
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (যদি পেশা উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার সাথে সম্পর্কিত হয়)।
- চাকরিরতদের জন্য NOC (No Objection Certificate) বা GO (Government Order) (সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য)।
- বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নিয়োগপত্র বা প্রত্যয়নপত্র।
- ব্যবসার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি।
- ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে:
- নতুন ঠিকানার সমর্থনে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানি বিল বা টেলিফোন বিলের মূল কপি ও ফটোকপি।
- ভোটার আইডি কার্ডে যদি নতুন ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে NID-এর আপডেট কপি।
ই-পাসপোর্ট রিনিউ প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে নির্দেশিকা
ই-পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়া মূলত অনলাইন-ভিত্তিক, যা আবেদনকারীদের জন্য অনেক সুবিধা নিয়ে এসেছে। নিচে ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়াটি আলোচনা করা হলো:
অনলাইনে আবেদন পদ্ধতি
ই-পাসপোর্ট নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদন করা সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় পদ্ধতি।
- ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রবেশ: প্রথমে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (www.epassport.gov.bd) ভিজিট করুন।
- নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি/লগইন: যদি আপনার অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। যদি আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট থাকে, তাহলে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
- আবেদন ফর্ম পূরণ: "Apply Online" অপশনে ক্লিক করে নির্দেশাবলী অনুসরণ করে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশাগত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন। পুরাতন পাসপোর্টের তথ্য সতর্কতার সাথে দিন।
- পাসপোর্ট ধরন ও মেয়াদ নির্বাচন: আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্টের মেয়াদ (৫ বছর বা ১০ বছর) এবং পৃষ্ঠা সংখ্যা (৪৮ বা ৬৪ পৃষ্ঠা) নির্বাচন করুন।
- ফি নির্ধারণ ও পরিশোধ: আপনার নির্বাচিত ধরন অনুযায়ী ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হবে। এরপর অনলাইন পেমেন্ট অপশন ব্যবহার করে (যেমন - ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং) ফি পরিশোধ করুন। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে একটি ই-পেমেন্ট স্লিপ ডাউনলোড করে নিন।
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউল: ফি পরিশোধের পর আপনার সুবিধামত পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদানের জন্য একটি অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ ও সময় নির্বাচন করুন।
- আবেদনপত্র প্রিন্ট: সম্পূর্ণ পূরণকৃত আবেদনপত্রের সারাংশ (Application Summary) প্রিন্ট করুন। এটি বায়োমেট্রিক প্রদানের সময় প্রয়োজন হবে।
চিত্রের পরামর্শ: ই-পাসপোর্ট অনলাইন পোর্টালের একটি স্ক্রিনশট, যেখানে আবেদন ফর্ম পূরণের অপশন দেখা যাচ্ছে। (Alt text: ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন পোর্টাল)
অফলাইন প্রক্রিয়া: প্রয়োজনীয়তা ও ধাপসমূহ
যদিও অনলাইন আবেদনকে উৎসাহিত করা হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে অফলাইন প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা যেতে পারে, বিশেষ করে যাদের ইন্টারনেট সুবিধা অপ্রতুল।
- ফর্ম সংগ্রহ: পাসপোর্ট অফিস থেকে হাতে পূরণযোগ্য আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করুন।
- ফর্ম পূরণ: সকল তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
- ফি পরিশোধ: নির্ধারিত ব্যাংকে গিয়ে পাসপোর্ট নবায়ন ফি জমা দিন এবং চালান কপি সংগ্রহ করুন।
- কাগজপত্র জমা: পূরণকৃত ফর্ম, ফি এর চালান এবং প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে জমা দিন।
- বায়োমেট্রিক ও সাক্ষাৎকার: নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য (ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ছবি, আইরিশ স্ক্যান) প্রদান করুন এবং প্রয়োজনে সাক্ষাৎকারে অংশ নিন।
পাসপোর্ট রিনিউ ফি ও পরিশোধ পদ্ধতি
পাসপোর্ট নবায়ন ফি পাসপোর্টের মেয়াদ এবং ডেলিভারি টাইপের (সাধারণ বা জরুরি) উপর নির্ভর করে। ফি পরিশোধের পদ্ধতিও এখন অনেক সহজলভ্য।
সাধারণ ও জরুরি ফি এর তালিকা
পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে মূলত দুটি ক্যাটাগরিতে ফি নেওয়া হয়: সাধারণ (Regular) এবং জরুরি (Urgent)।
- সাধারণ ডেলিভারি: সাধারণত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যায়। এর ফি জরুরি ডেলিভারির চেয়ে কম।
- জরুরি ডেলিভারি: সাধারণত ৭ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যায়। এর ফি সাধারণ ডেলিভারির চেয়ে বেশি।
ফি এর সঠিক পরিমাণ জানতে সর্বদা ই-পাসপোর্ট পোর্টালে ফি সেকশন দেখুন, কারণ এটি সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ (এই ফিগুলি পরিবর্তনশীল হতে পারে, সর্বশেষ তথ্যের জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন):
- ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর মেয়াদী:
- সাধারণ: প্রায় ৪,০২৫ টাকা
- জরুরি: প্রায় ৬,৩২৫ টাকা
- অতি জরুরি: প্রায় ৮,৬২৫ টাকা
- ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদী:
- সাধারণ: প্রায় ৫,৭৫০ টাকা
- জরুরি: প্রায় ৮,০৫০ টাকা
- অতি জরুরি: প্রায় ১০,৩৫০ টাকা
- ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর মেয়াদী:
- সাধারণ: প্রায় ৬,৩২৫ টাকা
- জরুরি: প্রায় ৮,৬২৫ টাকা
- অতি জরুরি: প্রায় ১২,০৭৫ টাকা
- ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদী:
- সাধারণ: প্রায় ৮,০৫০ টাকা
- জরুরি: প্রায় ১০,৩৫০ টাকা
- অতি জরুরি: প্রায় ১৩,৮০০ টাকা
এই ফি-এর সাথে ১৫% ভ্যাট (VAT) যুক্ত থাকে, যা মোট ফি-এর সাথে যোগ হয়। উপরোক্ত ফি-এর পরিমাণ শুধুমাত্র একটি ধারণা দেওয়ার জন্য প্রদান করা হয়েছে।
ফি পরিশোধের সহজ উপায়
ফি পরিশোধের জন্য এখন বেশ কয়েকটি সুবিধাজনক পদ্ধতি রয়েছে:
- অনলাইন ব্যাংকিং: অনেক ব্যাংক তাদের অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফি পরিশোধের সুবিধা দেয়।
- মোবাইল ব্যাংকিং: বিকাশ, রকেট, নগদ সহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমেও ফি পরিশোধ করা যায়।
- নির্ধারিত ব্যাংক শাখা: সোনালী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ঢাকা ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এবং আরও কিছু নির্ধারিত ব্যাংকের শাখায় সরাসরি ফি জমা দেওয়া যায়।
ফি পরিশোধ করার সময় অবশ্যই নিশ্চিত করুন যে আপনি সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক কোডে ফি জমা দিচ্ছেন। যেকোনো ভুলের কারণে আপনার আবেদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।
ভুল এড়াতে কিছু জরুরি টিপস
পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়াটি সহজ হলেও, কিছু সাধারণ ভুল আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটাতে পারে। এই টিপসগুলি অনুসরণ করে আপনি একটি মসৃণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে পারবেন।
সঠিক তথ্য প্রদান ও ডকুমেন্ট যাচাই
- তথ্য নির্ভুলতা: আবেদন ফর্মে আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ, NID নম্বর এবং ঠিকানাসহ সকল তথ্য আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদের সাথে হুবহু মিলিয়ে পূরণ করুন। সামান্য ভুলও আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ হতে পারে।
- ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখা: বায়োমেট্রিক প্রদানের জন্য যাওয়ার আগে সকল প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র এবং তাদের ফটোকপি প্রস্তুত রাখুন। একটি ফাইলে সবকিছু গুছিয়ে নিন।
- NID-এর গুরুত্ব: আপনার NID-এর তথ্যের সাথে যদি পুরাতন পাসপোর্টের তথ্যের কোনো গরমিল থাকে, তবে প্রথমে NID সংশোধন করে নেওয়া অত্যাবশ্যক। NID-ই আপনার প্রধান পরিচয়পত্র হিসেবে বিবেচিত হবে।
- পুরাতন পাসপোর্টের তথ্য: পুরাতন পাসপোর্টের নম্বর এবং ইস্যু ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ সঠিকভাবে উল্লেখ করুন।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া
- সময়মতো উপস্থিত হন: আপনার নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি অনুযায়ী পাসপোর্ট অফিসে ১৫-২০ মিনিট আগে উপস্থিত হন। এতে ভিড় এড়ানো যাবে এবং আপনি শান্তভাবে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবেন।
- পোশাক: বায়োমেট্রিক ছবির জন্য উপযুক্ত পোশাক পরে যান। টুপি, সানগ্লাস বা এমন কিছু যা আপনার মুখমণ্ডল ঢেকে রাখে, তা পরিহার করুন।
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট: ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার আগে হাত পরিষ্কার রাখুন। শুষ্ক বা ক্ষতিগ্রস্ত আঙুলের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।
- রসিদ সংগ্রহ: সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য একটি ডেলিভারি রসিদ দেওয়া হবে। এটি যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করুন, কারণ পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় এটি প্রয়োজন হবে।
পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা সর্বদা আপনাকে সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত থাকেন। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ থাকে, তবে দ্বিধা না করে তাদের সহায়তা চান।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
১. পাসপোর্ট রিনিউ করতে কতদিন সময় লাগে?
পাসপোর্ট রিনিউয়ের সময়কাল আপনার নির্বাচিত ডেলিভারি টাইপের উপর নির্ভর করে। সাধারণ ডেলিভারির ক্ষেত্রে সাধারণত ২১ কার্যদিবস, জরুরি ডেলিভারির ক্ষেত্রে ৭ কার্যদিবস এবং অতি জরুরি ডেলিভারির ক্ষেত্রে ৩ কার্যদিবস সময় লাগতে পারে। তবে, আবেদনকারীর তথ্যের যাচাই-বাছাই বা অন্য কোনো প্রশাসনিক কারণে এই সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
২. মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টের জন্য কি কোনো জরিমানা দিতে হয়?
হ্যাঁ, যদি আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আপনি রিনিউ করতে যান, তবে নির্দিষ্ট সময়সীমার পর অতিরিক্ত জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে। এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে ই-পাসপোর্ট পোর্টালে ফি সেকশন বা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।
৩. আমি কি অন্য কারো পাসপোর্ট রিনিউয়ের আবেদন জমা দিতে পারব?
সাধারণত, পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয়, বিশেষ করে বায়োমেট্রিক তথ্য (ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আইরিশ স্ক্যান) প্রদানের জন্য। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পিতা-মাতা বা বৈধ অভিভাবক সাথে থাকতে পারেন। তবে, একজন প্রাপ্তবয়স্কের আবেদন অন্য কেউ জমা দিতে পারবেন না।
৪. আমার NID এবং পাসপোর্টের তথ্যে অমিল থাকলে কী করব?
NID এবং পাসপোর্টের তথ্যে অমিল থাকলে প্রথমে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধন করতে হবে। NID সংশোধন হওয়ার পর সেই অনুযায়ী পাসপোর্টের তথ্য হালনাগাদ করার জন্য আবেদন করতে হবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ NID-ই আপনার মূল পরিচয়পত্র।
৫. অনলাইনে আবেদন করার পর কি আবার পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে?
হ্যাঁ, অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার পর আপনাকে অবশ্যই পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। সেখানে আপনার আবেদনপত্র যাচাই করা হবে, বায়োমেট্রিক তথ্য (ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আইরিশ স্ক্যান) নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে।
৬. আমার পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে রিনিউয়ের প্রক্রিয়া কী?
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে প্রথমে নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করতে হবে। এরপর জিডি কপির সাথে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যেমন NID, পূর্ববর্তী পাসপোর্টের ফটোকপি) সহ অনলাইনে বা অফলাইনে রি-ইস্যুর জন্য আবেদন করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে, আপনাকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হতে পারে।
৭. বিদেশে থাকা অবস্থায় পাসপোর্ট রিনিউ কিভাবে করব?
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে, তাই সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।
উপসংহার: ঝামেলামুক্ত পাসপোর্ট রিনিউয়ের পথে
পাসপোর্ট রিনিউ প্রক্রিয়াটি প্রথমদিকে কিছুটা জটিল মনে হতে পারে, তবে সঠিক তথ্য এবং ধাপে ধাপে নির্দেশিকা অনুসরণ করলে এটি অত্যন্ত সহজ এবং ঝামেলামুক্ত। আমরা আশা করি, এই বিস্তারিত গাইড আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছে এবং পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আপনার প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে। মনে রাখবেন, প্রতিটি ধাপেই নির্ভুলতা এবং ধৈর্যের প্রয়োজন।
আধুনিক ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া আপনার মূল্যবান সময় বাঁচায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তাই, আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৬ মাস আগে থেকেই নবায়নের প্রস্তুতি শুরু করুন। প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন, অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করুন, এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে আপনার আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্রকে সচল রাখুন। একটি বৈধ পাসপোর্ট কেবল একটি ভ্রমণের দলিল নয়, এটি আপনার অধিকার এবং সুযোগের দ্বার উন্মোচন করে।
আমরা আপনাকে আপনার পাসপোর্ট নবায়নের শুভকামনা জানাই। আপনার পরবর্তী যাত্রা হোক নিরাপদ ও আনন্দময়!
প্রস্তাবিত অভ্যন্তরীণ লিঙ্ক: